--- বিজ্ঞাপন ---

‘এবার ক্ষান্ত দেন, নেত্রীকে মুক্তি দিন’

0

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার উদ্দেশে আমার আহ্বান-এবার ক্ষান্ত দেন। একজন গুরুতর অসুস্থ বয়স্ক নেত্রীর (খালেদা জিয়া) ওপর আর জুলুম করবেন না। একটি বছর কারারুদ্ধ করে রেখে অত্যাচার করছেন। এবার মুক্তি দিন। ইতিহাস পড়ুন, ইতিহাস বড় নির্মম। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। সম্মানিত একজন নেত্রীকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এমন মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে যেন লুকোচুরি খেলা হচ্ছে। এক মামলায় জামিন নিলে অন্য মামলায় বাতিল করা হচ্ছে। হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ আবার স্থগিত করেছেন।

২০১৫ সালে কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা হামলা মামলার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুটি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। মামলা দুটির মধ্যে একটি মামলায় হাইকোর্ট গত ২৭ জানুয়ারি দেশনেত্রীকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন। নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই জামিন দেয়া হয়। অপর মামলায় জামিন মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রেখে বিলম্বিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অথচ সেই একই ঘটনার অপর মিথ্যা মামলায় সোমবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন কুমিল্লার আদালত। সেই সঙ্গে মামলাটির অভিযোগপত্র গঠনের জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই যে, এই মামলায় ৭৭ আসামির মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজন মারা গেছেন, পাঁচজনকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জনের সবাই জামিনে আছেন শুধু খালেদা জিয়া ছাড়া।

কারাগারে থেকে খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, চোখে প্রচণ্ড ব্যথা, তার পা প্রায় ফুলে গেছে। অথচ তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার অনিচ্ছায় কারাগারের ভেতরের আদালতে বিভিন্ন মামলার শুনানিতে তাকে ‘জোর করে’ হাজির করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

কারাবন্দি বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মীর সরফত আলী সপু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শহিদুল ইসলাম বাবুল, রফিক শিকদার, শেখ মোহাম্মদ শামীম, হয়রত আলী, আবুল হোসেন বকর, মিয়া নুর উদ্দিন অপু, মনোয়ার হোসেন, একরামুল হক বিপ্লবসহ নেতাকর্মীদেরও মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

সিইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচন একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু হবে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রতারণামূলক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.