--- বিজ্ঞাপন ---

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা দিচ্ছে সরকার

0

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপাসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের নিদেশে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না মন্তব্য করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, খুব শিগগিরই রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। দল পুনর্গঠন করে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটানো হবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্রের মা বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশব্যাপী বিএনপির বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে’ এই সভার আয়োজন করে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অঙ্গ সংগঠনের নূরুল ইসলাম খান নাসিম, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, নূরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম। এসময় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল সহ বিএনপির কেন্দ্রীয় বহু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের মন ভারাক্রান্ত। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি। আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার আমাদের দাবি কর্ণপাত করেনি।

সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করেছে। কারণ বিনা ভোটের সরকার তাকে ভয় পায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও একতরফা করতেই বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করেছে। আজকে সারাবিশ্বে তাই প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুতরাং ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে এ কথা ভুলে গেলে চলবেনা যে দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ বিএনপিকে সমর্থন করেন।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর নয় ২৯ ডিসেম্বর রাতেই নির্বাচনে ভোটের ডাকাতি হয়েছে। দেশের সব মানুষ তা জানে। তথাকথিত এই তামাশার নির্বাচনের পর বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়া বলছে বাংলাদেশ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ সিনিয়র নেতাদের বাইরে রেখে মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। আর দেশে কোনো ভোট হয়নি। এই দুটি অস্বাভাবিক ঘটনার ফলে সরকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও বেশিদিন আটক রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি। বরং আওয়ামী লীগ নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আজকে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে দাবি করেন তারা একজনও বলেন পারবেন না জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়েছে? জনগণ তাদের ভোট ডাকাতির উৎসব দেখেছে। এখন বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ নয় তারা বিক্ষুব্ধ। তারা রাজনৈতিক সঙ্কটকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, এই মুহুর্তে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যারা সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন তাদেরকেই ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নিতে হবে। তা না হলে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করে কিন্তু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সব অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠন দ্রুত শেষ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলায় সরকারের কূটকৌশলে বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর শাস্তি দিয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনি আপিলে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসার কথা। তিনি বেরিয়ে আসতে পারেননি। অন্য কেউ হলে কিন্তু বেরিয়ে আসতো। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আরো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আজকে খালেদা জিয়া ১ বছর ধরে কারাগারে ভাবতেই অবাক লাগে।

তিনি বলেন, আসলে সরকারের কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাচ্ছেনা। আমাদের আইনজীবীদের চেষ্টা কিন্তু কম নয়। নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের প্রভাবেই তিনি মুক্তি পাচ্ছেনা। নিম্ন আদালতে সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কারণেই তার মুক্তি হচ্ছে না। আন্দোলন ছাড়া তাকে মুক্ত করা যাবেনা। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ করেছি। তিনি আমাদেরকে আশ্বাস দিলেও কোনো দাবি মানেননি। এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যার নামে রাজনৈতিক মামলা নেই। আজকে ২৬ লাখ নেতাকর্মী এফআইআর ভুক্ত আসামি।

বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচনে গেলে দল শক্তিশালী ও নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ী হলে আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনবো। এজন্যই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু কোনো আশা আমাদের পূরণ হয়নি। তবে নির্বাচনের আগে আমি আন্দোলনের প্রস্তাব দিলেও অন্যরা তা গ্রাহ্য করেনি। আজকে আমাদের নিজেদের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে। আন্দোলন করতে হলে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করে তাদের মাঝে আস্থা এবং বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে আমাদের দল সংগঠিত হবে। তৃণমূল থেকেই কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়ার মামলাকে আইনী নয় রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করে মুক্ত করে আনতে হবে। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনোদিন আপোস করেননি। এজন্যই তিনি আপোসহীন নেত্রী। কারণ তিনি পেছনের দরজা দিয়ে রাজনীতিতে আসেননি। তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান। খালেদা জিয়া আজকে গণতন্ত্রের মূল্য দিচ্ছেন। বহু নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু আমরা পিছিয়ে যায়নি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো। ভবিষ্যতে তিনি আবারো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন ইনশাআল্লাহ।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সরকার সুষ্ঠু বিচার করতে দিচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য মাঠে নামতে হবে। ঢাকার ১০০ টি ওয়ার্ডের ১০ জন করে ১০০০ জন মহিলাকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। এভাবে সব সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে হবে। বিএনপি যাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছে, তারা আধা বেলা অবস্থান করবে। এভাবে ১৮ দিন অবস্থান ধর্মঘট করুন। আমি সুস্থ না, এরপরও আমি থাকবো। কারণ এছাড়া কোনো পথ নেই।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.