--- বিজ্ঞাপন ---

রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধুর অশ্লীল ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে পিঠিয়ে জখম

0

নিউজ ডেস্ক: মুঠোফোনে গোপনে এক গৃহবধুর অশ্লীল ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ করায় পিপলু শীল (৩২) নামের এক স্বামীকে বেধড়ক পিঠিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নুরুল আলম (৩৫) ও তার কয়েকজন সহযোগী। গুরুতর আহত পিপলু শীলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সুত্র জানায়। অভিযুক্ত নুরুল আলম রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে সিকদার বাড়ি গ্রামের ফজলুল করিমের পুত্র।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হামলার এই ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় গোসল করতে ঘরের পাশের শৌচাগারে গেলে পিপলু শীলের স্ত্রী’র অশ্লীল ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ করেন নুরুল আলমের বিরুদ্ধে। গোপনে ভিডিও ধারণ করার দৃশ্য দেখে ফেলার পর পাড়ার লোকজন অভিযুক্তকে ধরে মারধর করে মুঠোফোন কেড়ে নেন বলে স্থানীয়রা জানান। বিকেলে পোমরা মালিরহাট এলাকায় নুরুল আলম ও তাঁর সহযোগীসহ গৃহবধুর স্বামী পিপলু শীলের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন আহত পিপলুর স্বজনরা। এতে লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় পিপলু শীল। ঘটনার পর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহত পিপলু শীলের মা মিনতি শীল জানান, “ চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় আরএসআরএম রড ফ্যাক্টরিতে শিফট ইনচার্জ পদে চাকুরি করেন ছেলে পিপলু শীল। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় চাকুরির উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন সে। স্বামীকে বিদায় করে শৌচাগারে যান ছেলের বউ প্রিয়া শীল। কিছুক্ষণ পর বউয়ের চিৎকার চেচামেচি শুনে আমরা এগিয়ে গিয়ে জানতে পারি কেউ একজন শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও করছিলেন। একটা সাদা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের সময় বউমা এক ব্যক্তির হাতসহ দেখেছেন। এরপর ঘটনা পিপলুকে ফোন করে জানানো হলে সে আধাপথ থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। পাড়ার লোকজন গোপনে ভিডিও ধারণকারীকে খুঁজতে থাকেন। সকাল সাতটার দিকে পাশের পুকুর পাড়ে বসে এসব অশ্লীল ভিডিও দেখছিলেন নুরুল আলম । এসময় পেছন থেকে এসব দৃশ্য দেখে তাকে ঝাঁপটে ধরেন পিপলু শীল। পাড়ার লোকজন নুরুল আলমকে মারধর করে মুঠোফোন ও মেমোরীকার্ড কেড়ে নেন। এরপর কর্মস্থলে চলে যান পিপলু। বিকেল সাড়ে তিনটায় ফেরার পথে পোমরা মালিরহাট এলাকায় পিপলুকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
স্থানীয় যুবক মো. শাকিল জানান, “মূমূর্ষ অবস্থায় পিপলুকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিপলুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।”
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভুঁইয়া ঘটনা জেনেছেন জানিয়ে বলেন, রাত নয়টা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ”

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.