--- বিজ্ঞাপন ---

ঠাকুরগাঁওয়ে পুরনো পিলারে নতুন সেতু দায়ী ব্যক্তি পেলেন কাজের দায়িত্ব

0

মো. মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ॥ ঠাকুরগাঁও শহরের ফাঁড়াবাড়ি রোডে সেনুয়া নদীর ওপরে ভেঙেপড়া বেইলি ব্রিজটির ১ জোড়া পুরনো পিলারের ওপরে শুরু হয়েছে নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ। এ ছাড়া ব্রিজটি ভাঙার জন্য দায়ী ব্যক্তিই নতুন ব্রিজ নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ করায় জনমনে হতাশা দেখা দিয়েছে। বরুণগাঁও এলাকার শাওন বলেন, দীর্ঘদিন পরে ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে, এলাকার জন্য এটা খুব ভালো খবর, কারণ কষ্টের অবসান হতে যাচ্ছে। কিন্তু যে ব্রিজ ভাঙল সেই ঠিকাদারই আবার তা মেরামতের কাজ করছে। তারপরও ৬টি পিলারের মধ্যে ২টি পুরনো। তাই এ ব্রিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত আমরা। একই এলাকার আবদুল আওয়াল বলেন, বেইলি ব্রিজের পুরনো পিলারে এত টাকা ব্যয়ে নতুন ব্রিজ হবে ভাবতে পারিনি। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, তারা যেন সঠিক নজরদারিতে ব্রিজের কাজ শেষ করে। ঠাকুরগাঁও শহরের সেনুয়া বেইলি ব্রিজটি মালবাহী ট্রাকসহ ভেঙে পড়েছিল ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওই রাতে একটি কয়লাবোঝাই ট্রাক ঝুঁকিপূর্ণ সেনুয়া বেইলি ব্রিজটির ওপর উঠলেই এর উত্তর পাশের অংশটি ভেঙে পড়ে। ওই সময় ব্রিজের ওপরে থাকা বরুণগাঁও এলাকার ধন মোহাম্মদের ছেলে আইনুল হক (৬৫) নামের একজন পথচারী আহত হয়েছিলেন। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় সদর উপজেলার সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পরে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরুহয়েছে। তবে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭০ মিটার ব্রিজের ৩ জোড়া পিলারের মধ্যে ১ জোড়া পুরনো পিলার থাকায় জনমনে হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সেনুয়া বেইলি ব্রিজটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই দিন রাতে শহরের ঠিকাদার রাম বাবুর ভাটায় কয়লা নেওয়ার সময় একটি দশ চাকার ট্রাক ব্রিজের ওপর ওঠা মাত্রই ভেঙে পড়ে। সেই রাম বাবুই আবার ব্রিজ নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ পাওয়ায় বেশ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কান্তে শ্বর বর্মণ বলেন, সেনুয়া বেইলি ব্রিজটি অনেকদিন আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবুও ওই ব্রিজটি দিয়ে মানুষ ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচল করছিল। ফলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। ব্রিজটির নতুনভাবে নির্মাণ কাজ শুরুহয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে ব্রিজটি মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা দেওয়া হবে। পুরনো পিলারে নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্রিজটিতে ছয়টি পিলারের মধ্যে ২টি পিলার আগের। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পিলার ২টি অনেক মজবুত। তাই সেভাবে বাজেট করে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন পিলারে ব্রিজটি করতে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত। ব্রিজ ভাঙার জন্য দায়ী ব্যক্তির কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিকাদার যেভাবে ব্রিজ নির্মাণ করছে তাতে ঝুঁকির কোনো আশঙ্কা নেই। আর পুরনো বেইলি ব্রিজটির অংশ দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ব্রিজের মেরামত হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.