--- বিজ্ঞাপন ---

জোড় পূর্বক বেআইনিভাবে বৌদ্ধ বিহারের নির্মান কাজ বন্ধের দাবি

0

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের ভুয়া মালিকানা দাবি করে, দলিল ও খতিয়ান জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যায় ও অনিয়মের জোগ সাজসে, আইন অমান্য করে বেআইনিভাবে এবং জোড় পূর্বক বৌদ্ধ বিহারে আশ্রয়ে সুযোগের বৌদ্ধ বিহারের অবৈধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কথিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি সিডিএ থেকে বৌদ্ধ বিহারের প্ল্যান পাস করিয়ে অবৈধভাবে আইনকে অমান্য করে একতরপা ভাবে বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে তা অবৈধ । অবিলম্বে বৌদ্ধ বিহারে আশ্রিত বৌদ্ধ সমিতির অবৈধ কর্মকা- বন্ধ করতে হবে। চট্রগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার সংঘ সম্পত্তি সংরক্ষণ কমিটি ও বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার সংঘ সম্পত্তি সংরক্ষণ কমিটি ও বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উদ্যোগে আজ ৪ মার্চ বিকাল ৪ টায় নগরীর চট্টগ্রাম প্রেসকøাবের সামনে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে আশ্রিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির অবৈধ হস্তক্ষেপে জোড় পূর্বক বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণ কাজ শুরুর প্রতিবাদে সংগঠনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপাক ড. জিনবোধি ভিক্ষুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। যা সর্বসাধারণের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। শত বছরের প্রাচির মত এই বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেতে বিহার কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির দখলিয় কোনো সম্পত্তি নয়। দলিল ও খতিয়ান জালিয়াতির মাধ্যমে এবং ১৯২৬ খ্রিষ্টাদ্বে প্রণিত সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সংশোধনি জালিয়াতি পূর্বক চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে আসছে। যা বৌদ্ধ নীতি ও আদর্শ বহির্ভূত ন্যাককারজনক কাজ। বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের আর এস ১১০৬নং খতিয়ান চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার সম্প্রদায় পক্ষে ধর্মবংশ মহাস্থবিরের নামে লিপিবদ্ধ আছে। আর মৃত্যুর পর আর ঐ শিষ্য বিহারাধ্যক্ষ দীপঙকর শ্রীজ্ঞান স্থবিরের নামে পি এস খতিয়ান ১৯/২১ খতিয়ান ১৬/১৯ লিপিবদ্ধ ছিল । পরবর্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশের বি এস জরিপে উক্ত খতিয়ান দ্বয়ের মধ্যে অধ্যক্ষ দ্বয়ের নাম কৌশলে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নাম বসিয়ে বিহারের মালিকত্ব দাবি করে আসছে। যা অন্যায় ও অনিয়ম। সচেতন বৌদ্ধ জনগোষ্টি ও বৌদ্ধ ভিক্ষু সমাজ এ অন্যায় ও অনিয়ম মেনে নিতে পারে না। বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে রক্ষিত সর্বসাধারণের দেয়া দান বাক্সের লক্ষ লক্ষ টাকা বৌদ্ধ বিহারে না দিয়ে সমিতির একতিয়ারে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবদ কথিত বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি অন্যায়ভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে আসছে। বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির কর্মকর্তাগণ অবৈধ ও অনির্বাচিত। কারণ তারা ক্ষমতা দেখিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কোনো নিয়ম না মেনে নির্বাচন করতে গিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট সমিতির নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও নির্বাচন করলে হাইকোর্ট পরবর্তিতে নির্বাচন অবৈধ বলে ঘোষনা করে সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।
সংগঠনের প্রচার সচিব জে বি এস আনন্দবোধি ভিক্ষুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষী দেবী, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমাজ সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বোধিপাল বড়–য়া, বিশ্বমৈত্রী বিহারের অধ্যক্ষ বিজয়ানন্দ মহাস্থবির, পাহাড়তলি বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ প্রজ্ঞাপাল ভিক্ষু, ধর্মবংশ মহাস্থবির, সরগম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গীতিকার মো: লিপটন, বিভাগীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান, সাংস্কৃতিক সংগঠক রতন কান্তি বড়–য়া, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন লিনট, জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক এস এম নুরুল হুদা, চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠ চক্রের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল, বিশিষ্ট সংগঠক সুশীল কান্তি বড়–য়া, নন্দবংশ থের, জিনবংশ থের, সাংবাদিক সমীরণ পাল, নারী নেত্রী শম্পা বড়–য়া, লাভলী বড়–য়া প্রমুখ।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.