--- বিজ্ঞাপন ---

ঠাকুরগাঁওয়ে বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে রাজপথে আখ চাষিদের আন্দোলন

0
মো. মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। অথচ এই কৃষকই পাচ্ছেনা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য পাওনা টাকা। তাই চলতি বছরে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃক পাওনা আখের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে জেলার আখ চাষি। ৫ মার্চ

মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় আখ চাষি আবু বক্কর সিদ্দীক ও আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে সাধারন আখ চাষির ব্যানারে ঠাকুরগাঁও রোড মিলগেটে আন্দোলন করে আখ চাষিরা। এরই অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও রাজপথ অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে জেলার ভূক্তভূগী আখ চাষিরা।

এ সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিক্ষুব্ধ আখ চাষিরা। তাদের পদোভারে কেঁপে উঠে ঠাকুরগাঁও রোডের রাজপথ।

পরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা চিত্ত রঞ্জন রায়ের নেতৃতে অন্যান্য পুলিশ সদস্যগণ আখ চাষিদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা যায় ৫ হাজারের মতো আখ চাষির প্রায় ১২ থেকে ১৩ কোটি আখের টাকা বকেয়া রয়েছে।

আখ চাষি কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা আখ চাষিরা সুগার মিল বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও আখের ন্যায্য পাওনা টাকা পাচ্ছিনা। এদিকে আখ উৎপাদন করতে আমাদের নগদ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে। আমরা যদি খুব শিঘ্রই আখের পাওনা টাকা না পাই তাহলে আমাদের পরিবার নিয়ে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

আন্দোলনের নেতা আখ চাষি আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, আমরা আমাদের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলনে নেমেছি। ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশের একটি টিম আমাদের সাথে কথা বলেছে এবং সুগার মিলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আমাদের আখের বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করবেন এমন আশ্বাস দিয়েছে।

এছাড়াও একাধিক আখ চাষি বলেন তারা আর্থিক ভাবে লাভবানের আশায় আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। অথচ এখন তারা তাদের ন্যায্য পাওনা টাকা তুলতেই হিমসিম খেয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পরিচালক, ঠাকুরগাঁও  সুগার মিল আব্দুস শাহী বলেন, আখ চাষিদের বকেয়া টাকা খুব শীঘ্রই পরিশোধ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা চিত্ত রঞ্জন রায় বলেন, ঠাকুরগাঁও সুগারমিল কর্তৃক আখের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এখানে আখ চাষিরা আন্দোলন করে। পরে কৃষকদের সাথে কথা বলে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আমি সুগারমিল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে খুব শিঘ্রই টাকাটা মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে আসবে এবং পাস হয়ে আসলেই তারা কৃষকের হাতে টাকা তুলে দিতে পারবে।

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.