--- বিজ্ঞাপন ---

নতুন কিছু মানুষ সহজে গ্রহণ করতে চাই না

0
কাজী ফেরদৌস##
ক্লোরোফরম দিয়ে এনেস্থিসিয়া বা বেহুশ করার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছিল ১৮৫৩ সালে।মহারাণী ভিক্টোরিয়া তাঁর অষ্টম সন্তান প্রসবকালীন সময়ে ক্লোরোফর্মের মাধ্যমে এনেস্থিসিয়া নিয়ে ছিলেন। তিনি এতে এত স্বস্তি ও আরাম বোধ করেছিলেন যে নবম সন্তান প্রসবকালীন সময়ে ও তিনি ক্লোরোফরম নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।যথারীতি রাণী নবম ও শেষ সন্তান প্রসব করলেন।কিন্তু গীর্জার পাদ্রী আর সাধারণ মানুষ রাণীর সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠলেন। এটা কেমন কথা? খোদার উপর খোদকারী! অসুখ বিসুখ, দুঃখ কষ্ট এগুলোত আল্লাহরই দান! তার উপর হস্তক্ষেপ? আসলে মানুষ সবসময় নুতন কিছুর প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল ও সন্দেহ পরায়ন থাকে।মানুষ নতুন কিছু কে সহজে গ্রহণ বা স্বাগত জানাতে চায়না।বিশ্বাস বা আস্থা স্থাপন করতে চায়না নতুন কিছুর প্রতি। মানুষ নিয়ত পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীতে ধীরে ধীরে পরিবর্তীত পরিস্তিতির সাথে অব্যস্ত হয়।তাই নতুন কিছু প্রবর্তন করার আগে মানুষের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটা আগে ভেবে দেখে মোটিভেশনাল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।
একসময় আমরা ছোটবেলায় বিমান ভ্রমণ নিয়ে মানুষের বিরূপ মন্তব্য শুনতাম এমনকি এই উপমহাদেশের মানুষ বিদেশ গমনকে ও নিরুৎসাহিত করত বলে জেনেছি ।সমুদ্র যাত্রা কে বলত কালা পানিতে গমন! এখন কি কেউ বলে? এখন গীর্জার পাদ্রী মসজিদের ইমাম মন্দিরের পুরোহিত কেউকি এখন বিমান ভ্রমণ করেন না?এখন কি কোন গীর্জার পাদ্রী বলবেন এনেস্থিসিয়া ছাড়া আমার হৃদপিণ্ডে বাইপাস সার্জারি কর? না বলবেন না।কারণ এটার সম্পর্কে তাঁর যে প্রেজুডিস ছিল সেটা আর নেই। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও যখন বলেছিলেন পৃথিবীটা সমতল নয় গোল এবং এটা সূর্য কেন্দ্রিক। তখন রোমের ক্যাথলিক গীর্জা তাঁর উপর ক্ষেপে গিয়েছিল। কারণ গ্যালিলিওর তত্ত্ব ছিল সরাসরি বাইবেলের ধারণার পরিপণ্হী। গ্যালিলিও কে গীর্জা বাধ্য করে ছিলেন তাঁর তত্ত্ব পরিত্যাগ করতে।১৬৩২ খৃষ্টাব্দে রোমের ইনকুইজিসন কোর্ট বা ধর্মীয় আাদালতের রায়ে তাঁকে ধর্ম অবমাননা দায়ে অভিযুক্ত করাহয় এবং বাকী জীবন গৃহবন্দী হিসেবে কাটাতে বাধ্য করা হয়।অথচ এখন গ্যালিওর সেই তত্ত্বই বিজ্ঞানের প্রতিপাদ্য বিষয় । এখন পৃথিবীর গোলত্ব নিয়ে বা সৌর কেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা সম্পর্কে গীর্জার পাদ্রীর বিরোধিতা কি কেউ গ্রহণ করবে? মানুষ যে চন্দ্রে অবতরণ করেছে বা মানুষের পক্ষে যে চাঁদে যাওয়া আদৌ সম্ভব এটা শুধু বাংলাদেশ নয় পশ্চিমা দেশের অনেক শিক্ষিত মানুষ ও মানতে বা বিশ্বাস করতে চায়না। এটা হল মানুষের অন্তরের মাঝে বাসা বেঁধে থাকা হাজার বছরের সংস্কার বা কুসংস্কার।
আসলে নতুন বা অভিনব কিছু কে মানুষ সবসময় সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে।এটাই মানুষের চিরন্তন বৈশিষ্ট।বিজ্ঞানী আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করে ঘরে ঘরে যখন আলো জ্বালাবার ব্যবস্হা করেছিলেন এবং বিদ্যুৎ কোম্পানি গঠন করে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চাইলেন নিউইয়র্কের মানুষ প্রথমে ভীষণ অনিহা প্রকাশ করেছিল। কারণ বিদ্যুৎ এর মত একটা বিপজ্জনক জিনিসকে ঘরে ঢুকাতে কেউ রাজি হচ্ছিলনা।তবে সাহসী মানুষের অভাব ও কোন কালে ছিল না।তাই নিউইয়র্কের কিছু মানুষ সাহস করে তাদের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিলেন। একের দেখাদেখি অন্যরা ও নিলেন। এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার সার্বজনীন রূপ পেয়ে গেল। এখন পৃথিবীতে কোন মানুষ পাওয়া যাবে যে তার ঘর বানাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া?
সারকথা, সন্দেহবাদ ভাল।তা নাহলে ভাল আর মন্দের পার্থক্য নিরুপন সম্ভব হবেনা।তবে অন্ধত্ব বা কূপমন্ডুকতা পরিত্যাজ্য।###

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.