--- বিজ্ঞাপন ---

পাকিস্তানের পক্ষে গেলেন বাংলাদেশী রোটারীয়ান, হারলো বাংলাদেশ

0

নিউজ ডেস্ক##

বাংলাদেশে রোটারী আন্দোলনের বেশ সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে পলিও মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বাংলাদেশের রোটারীয়ানরা ছিলেন বেশ সক্রিয়। দেশের যে ক’জন রোটারীয়ান বিদেশে সুনামের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছেন তাদের মধ্যে রোটারীয়ান মীর আনিসুজ্জামান অন্যতম। তিনি চট্টগ্রামের অন্যতম পুরানো ক্লাব রোটারী ক্লাব অব আগ্রাবাদের সাবেক সভাপতি। তিনি বাংলাদেশের রোটারী জেলা-৩২৮০ হতে গর্ভনরও নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের হয়ে রোটারী আন্দোলনের সাথ সম্পৃত্ত আছেন।

সম্প্রতি একটি খবর বাংলাদেশের হাজার হাজার রোটারীয়ানদের কষ্টের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। রোটারীর জোন ওয়ান বি এর পরিচালক পদে আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এ অঞ্চলের ‘আর আই ডিরেক্টর’ পদের জন্য নমিনেটিং কাউন্সিলের নির্বাচন। এ নির্বাচনে কাউন্সিলদের মেজরিটি ভোট যিনি পাবেন তিনিই হবেন এ অঞ্চলের ‘রোটারী ইন্টারন্যাশনাল ডাইরেক্টর’। এ পদের জন্য বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার দুটি করে ভোট ছিল। ইন্দোনেশিয়ার একটি ভোট কম হওয়াতের ৫ সদস্য বিশিষ্ট নমিনেটিং কাউন্সিলদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশের রোটারীয়ান মীর আনিসুজ্জামান ও সেলিম রেজা, পাকিস্তানের প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ। প্রথম দফায় মীর আনিস পান ৪ ভোটএবং সেলিম রেজা পান ১ ভোট। এর পর ফাইনাল ভোটে প্রার্থী হয়ে যান বাংলাদেশের মীর আনিস ও পাকিস্তানের ফয়েজ আহমেদ। শেষপর্যন্ত দেখা যায় পাকিস্তানের প্রার্থী তাদের দেশের দুটি ভোট পেলেও বাংলাদেশের প্রার্থী মীর আনিস তিনটি ভোট পবার জায়গায় নিজের দেশের একটি ভোট পাকিস্তানের পক্ষে চলে যায়। অথচ ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়। বাংলাদেশের দুটি ভোট মীর আনিসকে দিলে পদটি বাংলাদেশ পেতো। এতে দেশের সম্মান বাড়তো। কিন্ত কেন এবং কি কারনে বাংলাদেশের এক পিডিজি পাকিস্তানের পক্ষে গেলেন এ নিয়ে দেশের রোটারীয়ানদের মাঝে বিরাজ করছে নানা ক্ষোভ।
বিষয়টি নিয়ে এখন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও সরগরম। রোটারীয়ান মিন্টু ইব্রাহিম তাদের ফেসবুক আইডিতে লেখেন..
`রোটারিতে আমাদের মতভেদ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক; তাই বলে *দেশের সাথে বেঈমানী*???
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আমাদের নতুন Zone 1B এর জন্য RI Director এর ইলেকশন অনুষ্ঠিত হয় এই জোনের প্রতিটি রিপ্রেজেনটেটিভ এর সমন্বয়ে গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট নমিনেটিং কাউন্সিলের।
সেই মিটিং এ *PDG Mir Anisuzzaman* সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪ টি ভোট পেয়ে ১ম হন। বাংলাদেশের অপর Candidate PDG Selim Reza ১ টি ভোট পান।
অতঃপর *বাংলাদেশের রিপ্রেজেনটেটিভ* PDG Mir Anisuzzaman এবং পাকিস্তানের PDG Faiz এর মাঝে ফাইনাল রাউন্ডের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের PDG Faiz তার দেশের দুটি ভোট পায় এবং বোনাস হিসাবে *বাংলাদেশের রাজাকার* এর ভোট টিও পায়। অপরদিকে বাংলাদেশের রিপ্রেজেনটেটিভ PDG Mir Anisuzzaman দুঃখজনক ভাবে তার দেশের ১টি (PDG Ahad এর ভোট) ও ইন্দোনেশিয়ার ১টি (PDG Al এর ভোট) ভোট পান।
পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া মিলেও বাংলাদেশের যে পরিমাণ ভোট আছে তার সমান নয়। অথচ শুধুমাত্র বেঈমানীর কবলে পরে আজ আমাদের বাংলাদেশ নমিনেটিং কাউন্সিল থেকে ছিটকে পড়লো।
*কেন দেশের সাথে এই বেঈমানী, কেন কেন?*
সবসময় আমরা চুপ করে থাকি বলেই?
আমাদের দেশ রোটারিতে এতো অবদান রাখার পরও কেন আমাদের বার বার International Position থেকে ছিটকে পড়তে হবে? কেন?’
বিষয়টি আলাপকালে রোটারীর সাবেক এক জেলা গর্ভনর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি দু:খজনক। রোটারী আন্দোরনে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আপিল করা হবে বলে তিনি জানান। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পদটি যাতে ন্যায়সঙ্গতভাবে বাংলাদেশের পক্ষে আসে তার জন্য প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।##১৭.৯.২০

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.