--- বিজ্ঞাপন ---

রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আইন কর্তৃপক্ষ দেখবে, এটি আমার এখতিয়ারের বাইরে

সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিফেন বিগান

0

বিশেষ প্রতিনিধি ##

আমেরিকার ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিফেন বিগান এখন বাংলাদেশে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। ঢাকাস্থ পদ্মা গেষ্ট হাউজে শুক্রবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কালাম আবদুল মোমেনও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি । কিন্তু আমাকে বলতেই হবে অনেক আমেরিকানের মত আমিও এ দেশে আসার জন্য গভীর আগ্রহ ও আকর্ষন বোধ করেছিলাম।  আমি যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বহু দশক ধরে চলে আসা সম্প্রীতির সম্পর্কের সাম্প্রতিকতম সহযোগিতা গুলো উদযাপন করতে এখানে আসতে পেরে আনন্দিত বোধ করছি।  বহু বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ ও আমেরিকান জনগণ ঘনিষ্ঠভাবে একত্রিত রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে।  একটি স্বাধীন ও অবাধ ও ইন্দু প্যাসিপিক অঞ্চল গড়ে তোলা ও এগিয়ে নিতে আমরা নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। কভিড মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। অদূর ভবিষ্যতে  নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন তৈরি হওয়ার পর বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে সমন্বয় ও সহযোগিতা করার আশা রাখি। যুক্তরাষ্ট্র প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামের বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেে উল্লেখ করে বিগান বলেন, ফোরাম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাবার সুযোগ তৈরি করবে। আমরা জানি বাংলাদেশ সরকার অর্থ নৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে থাকে। আমরা প্রত্যেকে আমাদের সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন করে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছি।
বাংলাদেশের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন সালমান রহমান।  যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে প্রতিনিধি হলেন আন্ডার সেক্রেটারি ক্রেচ। আমরা অর্থনীতি বিষয়ক একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বাংলাদেশের নতুন কনস্যুলেট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। আমেরিকাতে শক্তিশালী বৃহত্তর বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ হচ্ছে।  আমাদের দূতাবাসগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে যে বাধা তৈরি হয়েছে তা দুর হচ্ছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে চায় তাদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে এবং থাকবে।

বিগানের কাছে প্রশ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর কোন অগ্রগতি আছে কিনা..এ প্রশ্নে বিগান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) শৈশব যেখানে কেটেছিল সেখানে সকালে যাবার সুযোগ হয়েছে। ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক ঘটনা সকল আমেরিকানদের জন্য বেদনার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বিষয়গুলো আইন বিষয়ক কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রন করে থাকে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগালের বাইরে। এ ব্যাপারে আমি কোন আপডেট দিতে পারবো না। কারন এটি আমার দফতরের এখতিয়ারের বাইরে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সোচ্চার। যুক্তরাষ্ট্র তার রাজনৈতিক প্রভাবকে যথাসম্ভব কাজে লাগাচ্ছে। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে সকলকে কাধেঁ কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।ইন্দো প্যাসিপিকের প্রতিটি রাষ্ট্রকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মিয়ানমারকে সমানভাবে বলতে হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন,বহিঃবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষনিয় দিক হচ্ছে এ দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। যা এ সরকারের আমলে হয়েছে। আমার দেশের ব্যবসাযীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহী।বাংলাদেশে দক্ষ শ্রমিক আছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপস্থিতি রয়েছে। তিনি বলেন, পোশাক খাতের বাইরে আইটি, ওষুধ শিল্প খাতে, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ আছে।
 ##১৬.১০.২০

আপনার মতামত দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.